Logo

১০ বছর পরে তুমি কোথায় থাকবে এই প্রশ্নটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বেশিরভাগ মানুষ আগামীকাল নিয়ে ভাবে।
খুব কম মানুষ ১০ বছর পরে নিয়ে ভাবে।

কিন্তু মজার বিষয় হলো—আমাদের জীবনের বড় পরিবর্তনগুলো কখনো এক দিনে হয় না।
সেগুলো তৈরি হয় ছোট ছোট সিদ্ধান্ত থেকে, বছরের পর বছর ধরে।

আজ তুমি যা শিখছো, যাদের সাথে সময় কাটাচ্ছো, যেভাবে কাজ করছো—এসবই ধীরে ধীরে তোমার ভবিষ্যৎ তৈরি করছে।

অনেক মানুষ জীবনকে এমনভাবে চালায় যেন সবকিছু নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—যে মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শেখে, সে নিজের পথও তৈরি করতে শেখে।

ধরো দুইজন মানুষ আছে।

একজন শুধু আজকের দিনটা পার করার চেষ্টা করছে।
আরেকজন নিজেকে প্রশ্ন করছে:

  • ১০ বছর পরে আমি কেমন মানুষ হতে চাই?

  • কী ধরনের কাজ করতে চাই?

  • মানুষ আমাকে কী জন্য মনে রাখবে?

এই প্রশ্নগুলো সহজ মনে হলেও, এগুলোই জীবনের দিক বদলে দিতে পারে।

কারণ যখন তুমি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবো, তখন তোমার আজকের সিদ্ধান্তও বদলে যায়।

হয়তো তখন তুমি নতুন কিছু শেখা শুরু করবে।
হয়তো তুমি সময় নষ্ট করা কমাবে।
হয়তো তুমি এমন কাজ শুরু করবে যা এখন কঠিন, কিন্তু ভবিষ্যতে মূল্যবান।

বিখ্যাত উদ্যোক্তা Jeff Bezos একবার বলেছিলেন:

I often ask myself: will I regret not doing this when I’m 80?

নতুন বই: পল্লী-সমাজ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী-সমাজ

ধনী মানুষরা এমন কি প্রশ্ন করে—যা সাধারণ মানুষ করে না

বেশিরভাগ মানুষ যখন কোনো সুযোগ দেখে, তারা প্রথমেই একটি প্রশ্ন করে—

“এটা করতে আমার কত টাকা লাগবে?”

কিন্তু অনেক ধনী মানুষ ঠিক উল্টো প্রশ্ন করে।

তারা জিজ্ঞেস করে—

“এটা থেকে কত মূল্য (value) তৈরি করা যাবে?”

এই দুইটা প্রশ্ন দেখতে প্রায় একই রকম মনে হলেও, তাদের চিন্তার দুনিয়া সম্পূর্ণ আলাদা।

সাধারণ মানুষ খরচ দেখে ভয় পায়।
ধনী মানুষ সম্ভাবনা দেখে।

ধরো একটি নতুন আইডিয়া আছে—একটা অ্যাপ, একটা ব্যবসা, বা একটি নতুন প্রজেক্ট।

অনেকেই ভাববে:
“এটা শুরু করতে তো অনেক টাকা লাগবে।”

কিন্তু একজন ভিন্নভাবে চিন্তা করা মানুষ ভাববে:
“যদি এটা সফল হয়, তাহলে এটা কত মানুষের কাজে লাগবে?”

কারণ তারা জানে—
যেখানে মানুষের জন্য মূল্য তৈরি হয়, সেখানেই টাকা আসে।

বিশ্বের বড় অনেক কোম্পানি শুরুতে টাকা দিয়ে নয়, একটা সমস্যা সমাধানের চিন্তা দিয়ে শুরু হয়েছিল।

Google শুরু হয়েছিল মানুষের তথ্য খুঁজে পাওয়ার সমস্যা সমাধান করতে।
Facebook শুরু হয়েছিল মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে।

তারা প্রথমে টাকা বানানোর প্রশ্ন করেনি।
তারা প্রথমে মূল্য তৈরির প্রশ্ন করেছে।

এ কারণেই চিন্তার একটি ছোট পার্থক্য মানুষের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

হয়তো আজ তোমার সামনে কোনো সুযোগ আছে।

তখন নিজেকে শুধু এই প্রশ্নটা করো—

“এটা করতে আমার কত খরচ হবে?”

না।

“এটা থেকে আমি কত মূল্য তৈরি করতে পারবো?”

কারণ ইতিহাসে অনেক বড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে—
একটা ভিন্ন প্রশ্ন করার মাধ্যমে।

Larry Page একবার বলেছিলেন—

Always deliver more than expected.

অর্থাৎ, তুমি যদি মানুষের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মূল্য দিতে পারো—
তাহলে সফলতা একসময় তোমার কাছেই আসবে।

কেন কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল Steve Jobs-কে?

ভাবুন তো
যে মানুষটি পরে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একটি তৈরি করবেন,
তিনি কি না কলেজের নিয়মিত ছাত্রই থাকেননি।

শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি
Steve Jobs কলেজের পথ ছেড়ে দিয়েছিলেন খুব অল্প বয়সেই।

কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই
কেন?

এমন কী হয়েছিল?

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Reed College–এ ভর্তি হয়েছিলেন।
কিন্তু খুব দ্রুত তিনি বুঝতে শুরু করলেন
যে পড়াশোনার জন্য এত টাকা খরচ হচ্ছে,
তার অনেকটাই তার কাছে অর্থপূর্ণ মনে হচ্ছিল না।

কলেজের ফি ছিল খুব বেশি।
আর তার দত্তক বাবা–মা সেই খরচ চালাতে জীবনভর সঞ্চয় করেছিলেন।

এই জায়গায় এসে Steve Jobs একটি কঠিন প্রশ্ন নিজেকে করেছিলেন—

“আমি কি এমন কিছু পড়ছি, যা সত্যিই আমার জীবনে দরকার?”

যখন উত্তরটা পরিষ্কার হলো না,
তিনি একটি অপ্রচলিত সিদ্ধান্ত নিলেন।

তিনি college drop out করলেন।

কিন্তু এখানেই গল্পের আসল মোড়

কলেজ ছাড়লেও তিনি শেখা ছাড়েননি।

তিনি এমন ক্লাসগুলোতে বসতেন
যেগুলো তার সত্যিই ভালো লাগত।

এর মধ্যে ছিল calligraphy
অক্ষরের সৌন্দর্য, spacing, typography–এর শিল্প।

তখন হয়তো কেউই ভাবেনি
এই ক্লাস ভবিষ্যতে কোনো বড় কাজে লাগবে।

কিন্তু বহু বছর পরে,
যখন Apple তাদের Macintosh computer তৈরি করছিল
তখন সেই calligraphy–এর ধারণাই কম্পিউটারে সুন্দর font design আনার পথ দেখায়।

এর ফলে personal computer প্রথমবারের মতো
শুধু একটি মেশিন নয়,
একটি সুন্দরভাবে ডিজাইন করা অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

এখানেই লুকিয়ে আছে বড় শিক্ষা

পরে এক বক্তৃতায় Steve Jobs বলেছিলেন

“You can’t connect the dots looking forward;
you can only connect them looking backward.”

অর্থাৎ,
জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত তখন অর্থহীন মনে হতে পারে,
কিন্তু পরে ফিরে তাকালে বোঝা যায়
সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিল।

অনেক বুদ্ধিমান মানুষ সফল হয় না, আবার অনেক সাধারণ মানুষ সফল হয় এর কারন কি?

ইতিহাসে এমন অসংখ্য মানুষ আছে যারা খুব মেধাবী ছিল, কিন্তু বড় কিছু তৈরি করতে পারেনি। আবার এমন অনেক মানুষ আছে যাদের কেউ বিশেষ প্রতিভাবান ভাবেনি, কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে।

এর একটি পরিচিত উদাহরণ হলো Jack Ma

স্কুল জীবনে তিনি বারবার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্যও তাকে কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়েছিল। পরে চাকরির জন্য যখন বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছিলেন, তখন প্রায় সব জায়গা থেকেই তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

একবার একটি চাকরির জন্য ২৪ জন আবেদন করেছিল।
২৩ জনকে নেওয়া হয়েছিল।
শুধু একজনকে নেওয়া হয়নি—তিনি ছিলেন জ্যাক মা।

তখন কেউ ভাবেনি যে এই মানুষটাই একদিন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি ও ই-কমার্স কোম্পানি Alibaba Group তৈরি করবেন।

তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?

অনেক সময় সমস্যা বুদ্ধিমত্তায় নয়—সমস্যা অভ্যাসে

বুদ্ধিমান মানুষ অনেক কিছু দ্রুত বুঝতে পারে। কিন্তু দ্রুত বোঝা আর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাওয়া এক জিনিস নয়।

সময়ের সাথে সাথে সেই ছোট ছোট প্রচেষ্টা জমে বড় হয়ে যায়।

এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়—
যে মানুষটাকে একসময় “সাধারণ” বলা হতো, সেই মানুষটাই কয়েক বছর পরে অসাধারণ হয়ে ওঠে।

কারণ সাফল্য অনেক সময় প্রতিভার প্রতিযোগিতা নয়।
এটা দীর্ঘ সময় ধরে লেগে থাকার প্রতিযোগিতা।

“It’s not that I’m so smart. It’s just that I stay with problems longer.”
— Albert Einstein

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা বুদ্ধিমত্তা না।

প্রশ্নটা হলো—
কে বেশি দিন পর্যন্ত নিজের পথে টিকে থাকতে পারে?