Logo

যে মানুষ AI ব্যবহার করতে জানে না, সে কি আগামী ৫ বছরে পিছিয়ে পড়বে?

একটা সময় ছিল—কম্পিউটার জানা মানুষ আলাদা করে চোখে পড়তো।
আজ কম্পিউটার না জানা মানুষই আলাদা।

AI ঠিক সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে।

প্রশ্নটা আসলে এটা না যে AI চাকরি কেড়ে নেবে কি না
আসল প্রশ্ন—
যে মানুষ AI ব্যবহার করতে জানে, সে কি অন্যদের চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে?

উত্তরটা একটু অস্বস্তিকর।

হ্যাঁ, যাবে।

কারণ AI এখন “বুদ্ধিমান যন্ত্র” না,
এটা একটা ক্ষমতা বাড়ানোর হাতিয়ার

একজন লেখক যদি AI দিয়ে আইডিয়া সাজাতে পারে,
একজন প্রোগ্রামার যদি AI দিয়ে সমস্যা দ্রুত বুঝতে পারে,
একজন ব্যবসায়ী যদি AI দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্লেষণ করতে পারে—
তাহলে সে মানুষটা দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করেও
অন্যদের ১২ ঘণ্টার ফল পাচ্ছে।

এখানে AI প্রতিভা বানাচ্ছে না,
এখানে AI গতি বাড়াচ্ছে

আর আধুনিক পৃথিবীতে গতি মানেই এগিয়ে যাওয়া।

কিন্তু একটা ভুল ধারণা খুব বিপজ্জনকভাবে ছড়াচ্ছে—
“AI সব করবে, মানুষ কিছুই করবে না।”

বাস্তবে হচ্ছে উল্টো।

AI যাকে ব্যবহার করতে জানে না,
সে শুধু পিছিয়ে পড়বে না—
সে ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে।

ঠিক যেমন:

  • ইন্টারনেট না জানা মানুষ

  • স্মার্টফোন ব্যবহার না করা মানুষ

  • ইমেইল না জানা মানুষ

তারা হঠাৎ হারিয়ে যায়নি।
তারা চুপচাপ পিছিয়ে গেছে

তবে একটা স্বস্তির কথা আছে।

AI শেখা মানে কোড লেখা না।
AI শেখা মানে সঠিক প্রশ্ন করতে শেখা

যে মানুষ চিন্তা করতে জানে,
যে মানুষ শেখার ইচ্ছা হারায়নি,
তার জন্য AI কোনো শত্রু না—
AI তার সবচেয়ে শক্তিশালী সঙ্গী।

আগামী ৫ বছরে দুই ধরনের মানুষ থাকবে—

একদল বলবে:
“AI সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে।”

আরেকদল বলবে:
“AI আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে,
যেখানে আমি একা কখনো পৌঁছাতে পারতাম না।”

তুমি কোন দলে থাকতে চাও—
সেই সিদ্ধান্তটা কিন্তু এখনই নেওয়া হচ্ছে।

তোমার কী মনে হয়—AI কি সুযোগ, না ভয়?

নতুন বই: অস্তিত্বের সংকট

Rakibul Hasan Shawon

অস্তিত্বের সংকট

ডলারের কাছে হারাম হার মানে

আমেরিকা, ইউরোপ আর ব্রিটেনে যেতে ভিসা লাগবে না—এই ঘোষণা দিলে এক দিনেই বাংলাদেশ প্রায় খালি হয়ে যাবে। ডিভি লটারির সময় পোস্ট অফিসে লটারির ফর্ম জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি—দেশের লক্ষ লক্ষ হুজুরও সেখানে ছিলেন। এখনো বাংলাদেশে বিয়ের পাত্র খোঁজার ক্ষেত্রে ইউরোপ, আমেরিকা আর ব্রিটিশ সিটিজেন পাত্ররাই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। প্রতিবছর ভূমধ্যসাগর, সাহারা মরুভূমি আর আমাজন জঙ্গল পাড়ি দিয়ে—২০ লক্ষ টাকা দালালকে দিয়ে, মাসের পর মাস পায়ে হেঁটে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ছাড়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ। এক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের লক্ষ্য একটাই—আমেরিকার ডলার, ইউরোপের ইউরো আর ব্রিটেনের পাউন্ড। এই সময় কেউ বলে না, আমেরিকার ডলার হারাম—কারণ ডলারে আছে আব্রাহাম লিংকন, জর্জ ওয়াশিংটন, ফ্র্যাংকলিন রুজভেল্টের ছবি; তারা সবাই কাফের-নাসারা। ইউরো হারাম—কারণ ইউরো নোটে আছে ইউরোপের বড় বড় চার্চ আর ক্যাথেড্রালের ছবি। ব্রিটিশ পাউন্ড তো হালাল হতেই পারে না—কারণ পাউন্ড মানেই ব্রিটেনের রাণীর ছবি। রাণী মানেই অমুসলিম নারী, বেপর্দা নারী। কিন্তু বাঙালি মুসলমানের ডলার-পাউন্ড-ইউরোতে কোনো এলার্জি নেই। পশ্চিমা দেশগুলোতে গিয়ে মিথ্যাচার করে সেসব দেশের সোশ্যাল বেনিফিট খেতেও তাদের কোনো সমস্যা নেই। টুপি, দাড়ি, নামাজ, রোজার পাশাপাশি ট্যাক্স ফাঁকি দিতেও সমস্যা নেই। শুধু বাঙালি মুসলমান নয়—সারা বিশ্বের দরিদ্র ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মুসলমানদের কাছেই সবচেয়ে বড় মধু হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব আর তাদের ডলার-পাউন্ড-ইউরো। এই নোটে কার ছবি আছে বা কীসের ছবি ছাপা—এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। বাঙালি মুসলমানের সমস্যা শুধু নিজের দেশের নোটের ছবিতে। নিজের দেশের নোটে যদি কোনো প্রাচীন ঐতিহ্যের ছবি থাকে, তখনই নাকি তাদের নামাজ কবুল হয় না। কিন্তু কখনো কি কোনো বাঙালি মুসলমানকে প্রশ্ন করতে শুনেছেন— “হুজুর, আমার ছেলে আমেরিকায় থাকে, মেয়ের জামাই ইউরোপের সিটিজেন, আমি কয়েক দিন আগে ব্রিটেন ঘুরে এলাম। পকেটে ডলার-পাউন্ড-ইউরো নিয়ে নামাজ পড়লে আমার নামাজ কবুল হবে তো?”

ভুয়া মোটিভেশনের ফাঁদে পড়বেন না: ইনকাম নয়, ভবিষ্যৎ ভাবুন

"চা বেচে অমুক দিনে ১০ হাজার কামাচ্ছে" "বেগুনের ক্ষেত করে মাসে ২ লাখ টাকা ইনকাম" "চাকরি ছেড়ে গোবর ছেনে কোটিপতি" এসব গল্প এখন অনেকেই শোনায়। তরুণদের জন্য পরামর্শ, এই ফাঁদে পড়বেন না। একদম নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতা — আমাদের বয়সী একজন — ওয়েল পেইড জব ছেড়ে এইসব কুইক ক্যাশের নেশায় পড়ে গেল, এখন হাউমাউ করে মরছে। আপনি যাই করেন, সেটার এক্সপান্ডিবিলিটি থাকতে হবে। ধরুন, একজন রিকশাওয়ালা, সে ডিসেন্ট আয় করে, এন্ট্রি লেভেল চাকরিজীবীর চেয়ে বেশি। রিকশাওয়ালারা মাসে ৩০ হাজার কামায় আর জবে নতুন হলে স্যালারি মাত্র ১৫ হাজার — ভিউ শিকারীরা আপনাকে এটুকুই বলবে। এবার পরের হিসাবটা! ভাবুন, ওই রিকশাওয়ালা তার ইনকাম ডাবল করতে চায় বা নিদেনপক্ষে আর একটু বাড়াতে চায়। তার জন্য একমাত্র অপশন রিকশা চালানোর সময় বাড়িয়ে দেওয়া। ডাবল করতে চাইলে তাকে ১০ ঘন্টার জায়গায় ২০ ঘণ্টা রিকশা চালাতে হবে। এটা কী ফিজিক্যালি পসিবল? রোদ, বৃষ্টি তো আছেই, ছুটির দিনে কাজে না গেলে আয় নেই। কিন্তু এন্ট্রি লেভেলের জবে ৪/৫ বছরে বেতন ডাবল হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক, কোনো অতিরিক্ত ঘন্টা না বাড়িয়েই। আপনি যে কাজটা করতে চান সেটা তো আগে ভালো লাগতে হবে। ফেসবুকের এক লাইকখোরের লেখা পড়ে আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন বাজারে বসে চা বেচবেন, চাকরির ডাবল ইনকাম। ভেবে দেখুন, আগামী ৩০ বছর আপনি কাপ পিরিচ আর চুলা নিয়ে চা বানাতে রাজি আছেন কিনা। লাইফস্টাইলের ব্যাপার তো আছেই। আপনার যখন তেমন ইনকাম ছিল না, তখন আপনি বাইক চালাতেন। সামনে টাকা হবে, গাড়ি কিনবেন। কিন্তু এসব কাজে গাড়ির ভূমিকা কি? গাড়ি চালিয়ে কি আপনি ঝালমুড়ি বেচতে যাবেন? চাকরিজীবি বা ডিসেন্ট লেভেলের উদ্যোক্তা হলে আপনি তার সাথে একটা লাইফস্টাইল আর নেটওয়ার্ক বাই ডিফল্ট পাবেন। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন, আপনি একটা স্টেশনারি কোম্পানির মার্কেটিংয়ে জব করেন। আপনি আজ এই ভার্সিটিতে, কাল ওই ঝকঝকে অফিসে বি-টু-বি ডিল করতে যাবেন। কত হাই স্কিল লোকের সাথে পরিচিতি হবে, কন্টাক্ট বিনিময় হবে। কিন্তু আপনি টাকা দেখে রাস্তায় বাদামের ঝুড়ি নিয়ে দাঁড়ালেন। আপনার নেটওয়ার্ক হবে পাশের ফুচকাওয়ালা, আইসক্রিম বিক্রেতা ইত্যাদি। ওই ফুচকাওয়ালার ওই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চিন্তা সে কতক্ষণে তার সব মাল বিক্রি করে ঘরে যাবে। আগামীকালও সে একই কাজ করবে। আপনার মতো তার অ্যাম্বিশন নেই, বড় কিছু করার ইচ্ছে নেই, দেশের মানুষের উপকারে আসার খায়েশ নেই। মনে রাখবেন, Your network is your net-worth. আর ওই সমস্ত পেশায় যে খুব বেশি ইনকাম হয় তাও কিন্তু না। খবরের শিরোনামে লেখা "চাকরি ছেড়ে বেগুন চাষে লাখপতি", ভিতরে থাকে ১ বছরে আয় সর্বসাকুল্যে ৩ লাখ টাকা। মানে ওই লোক মাসে মাত্র ২৫ হাজার টাকা কামায়, এটা নিয়ে আবার নিউজও হয়! তাই এইসব ভুয়া মোটিভেশনের ফাঁদে পড়বেন না। প্রতি বছর মিডিয়াগুলো নিজেদের স্বার্থেই এসব নিউজ করে। গত ৫ বছরে নিউজ তো কম দেখেননি, আইফোন হাতে চানাচুরওয়ালা, ডিএসএলআর হাতে চটপটি বিক্রেতা, আরো কত কি! প্রশ্ন হলো তারা এখন কোথায়? তারা এখনও কেন সেই রাস্তায় বসছে না আর ওরকম আয় করছে না? তাহলে এগুলো রিলায়েবল পেশা হয় কিভাবে? কোনো কাজই ছোট নয়। কিন্তু সব কাজই যে আপনার ফিল্ড, তা-ও নয়। আপনার কাছে খুব ভালো একটা প্ল্যান আছে, কিন্তু পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য আপনি এগোতে পারছেন না। এখন আপনি যদি মাছ কুটে, চানাচুর বেচে ওই ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে ফেলতে পারেন, তাহলে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু যেভাবে এসব পেশাকে সরাসরি একটা ওয়েল পেইড জবের বিকল্প হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তা মোটেও রিয়েলিস্টিক নয়।

এই দেশে সবাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে চায়ের দোকানে, ফেসবুকে, ওয়াজে, টকশোতে সব জায়গায়

আমরা সবাই সৎ মানুষ। শুধু ফাইল সই করার সময় একটু অসৎ, চাকরি দেওয়ার সময় একটু অসৎ, টেন্ডার দেওয়ার সময় খুব অসৎ। এই দেশে ঘুষ খাওয়া মানুষ লজ্জা পায় না, কিন্তু ঘুষ না দেওয়া মানুষকে সবাই প্রশ্ন করে— “তুমি কি বোকা নাকি?” আমরা বলি— “দেশটা ঠিক হবে না।” কিন্তু আমরা চাই—আমার কাজটা আগে হোক আমার লোকটা ঢুকুক আমার ফাইলটা ওপরে যাক দেশটা পরে দেখব। আমরা দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করি, যতক্ষণ না তারা আমাদের কাজটা করে দেয়। কাজ হয়ে গেলে তারা “ভালো মানুষ” হয়ে যায়। এই দেশে দুর্নীতি এতটাই স্বাভাবিক যে যে সৎ থাকে, তাকেই সন্দেহ করা হয়— “এ লোকটা কিছু একটা লুকাচ্ছে।” সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার কী জানেন?এই দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো— একটা দীর্ঘশ্বাস। আমরা আর চিৎকার করি না,প্রতিবাদ করি না, শুধু বলি— “এটাই বাংলাদেশ।” না ভাই, এটাই বাংলাদেশ না। এটা আমরা।

ফ্রি হলো সবচেয়ে পুরোনো কৌশল

যখন কোন কিছু বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বুঝে নিও তার জন্য অনেক বড় মূল্য দিতে হবে। নোবেল বিজয়ী ডেসমন্ট টু টু একবার বলেছিলেন, 'যখন মিশনারীরা আফ্রিকায় এসেছিল, তখন তাদের বাইবেল ছিল এবং আমাদের জমি ছিল' । তারা বলল, 'আমরা আপনার জন্য দোয়া করতে এসেছি'। আমরা চোখ বন্ধ করেছি, যখন খুললাম তখন আমাদের হাতে বাইবেল ছিল, আর তাদের হাতে আমাদের জমি ছিল । একইভাবে যখন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইট এলো। তখন তাদের ফেসবুক - হোয়াটসঅ্যাপ ছিল, আর আমাদের ছিল স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা। তারা বলেছিল 'এটা বিনামূল্যে'। আমরা চোখ বন্ধ করেছিলাম এবং যখন খুললাম তখন আমাদের ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ আছে এবং তাদের কাছে আমাদের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত তথ্য আছে। যখনই কোন কিছু ফ্রী পাওয়া যায় তখনই তার মূল্য আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে দিতে হয়। "জ্ঞান থেকে শব্দ বোঝা যায়, অভিজ্ঞতা থেকে অর্থ বোঝা যায়"