Logo

নিজেকে প্রমাণ করার দরকার নেই

আপনার কাছে যদি মুরগির ঝোল আর সাদা ভাত বেশি ভালো লাগে তবে আপনি সেটাই খান! গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডের চোখে স্মার্ট সাজার জন্য চাইনিজ অর্ডার করার দরকার নাই!

যদি ক্যাপিচিনো খেতে ভালো না লাগে জোর করে ভালো লাগাতে যাবেন না, আপনি টং দোকানের দুধ চা খান — কোনো দ্বিধা ছাড়াই দুধ চায়ের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিন।

আপনার গেম অব থ্রোনস ভালো লাগে না, আপনি ডার্ক ফ্যান্টাসি বোঝেন না, আর্ট ফিল্ম দেখতে আপনার বিরক্ত লাগে; আপনি দেখবেন না।

আপনার কবিতা পড়তে ভালো লাগে না, পড়বেন না। বৃষ্টি হলেই যে কবিতা পড়তে হবে একথা কোথায় লেখা আছে? বৃষ্টির দিনে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমানোও কি কম শান্তির!

স্টাইলিশ আর টাইট ফিটিং জামা কাপড় পড়ে কমফোর্ট ফিল না করলে পড়বেন না, ঢিলাঢালা জামা কাপড় পড়ে বের হোন। সবাই স্টাইলিশ জামা কাপড় পড়লে আপনাকেও পড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই। যারা আপনার ভিতরটা না দেখে গায়ের কাপড় দিয়ে আপনাকে বিচার করে তাদের সাথে মেলামেশা না করাই আপনার জন্য ভালো! অন্যের চোখে নিজেকে ড্যাশিং প্রমাণ করার জন্য নিজের উপর কিছু চাপিয়ে নিবেন না।

ক্যাপাচিনো পছন্দ না করলে যে সার্কেলে আপনার ইজ্জত থাকে না, গেম অব থ্রোনস, ডার্ক ফ্যান্টাসি, বিটিএস না দেখলে যে সার্কেলে আপনি ক্ষ্যাত বলে পরিচিত হন, ট্রেন্ডি স্টাইলে না চললে যে সার্কেলে আপনি আঁতেল উপাধি পান, ওইটা টক্সিক সার্কেল — ওখান থেকে বের হয়ে আসুন!

যারা আপনাকে আপনার মত করে গ্রহণ করতে পারে না, তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেয়ে একা থাকাই ভালো। মনে রাখবেন একশটা নাক উঁচু জাজমেন্টাল ইন্টেলেকচুয়ালের সাথে কৃত্রিম আড্ডার চেয়ে একজন সাধারণ দিলখোলা মানুষের সাথে দুদন্ড গল্প করা অনেক বেশি প্রশান্তির।

নতুন বই: অস্তিত্বের সংকট

Rakibul Hasan Shawon

অস্তিত্বের সংকট

যে জীবন পেতে ২৫ বছর লাগে, তা যদি আজই থাকে?

মেক্সিকো ভ্রমণে গেছেন এক পর্যটক। ঘুরতে ঘুরতে তিনি গেলেন সমুদ্রের পাড়ে। সেখানে জেলেদের মাছ ধরা দেখে তিনি দারুণ মজা পেলেন। তাদের কাছে গিয়ে পর্যটক বললেন, "আচ্ছা, প্রতিদিন মাছ ধরতে আপনাদের কত সময় লাগে?”

“বেশিক্ষণ না!” জেলেদের ঝটপট জবাব।

“তাহলে আপনারা বেশি সময় ধরে আরো বেশি মাছ ধরেন না কেন?” পর্যটক প্রশ্ন করেন।

"আমরা যে মাছে ধরি তাতে আমাদের প্রয়োজন মিটে যায়।" জেলেরা জাল টেনে তুলতে তুলতে বলেন।

“তাহলে মাছ ধরার পর বাকি সময়টা আপনারা কী করেন?” পর্যটক জানতে চান।

জেলেরা উত্তর দেয়, “আমরা ঘুমাই, বাচ্চাদের সাথে খেলা করি, স্ত্রীর সাথে খাই, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই, মজা করি, হাসি, গলা ছেড়ে গান গাই, জীবনকে উপভোগ করি।"

পর্যটক তাদেরকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “আমি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছি। আমি আপনাদেরকে বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করতে পারি। আপনারা আরও বেশি সময় নিয়ে মাছ ধরবেন, বাড়তি মাছগুলো বিক্রি করে মাছ ধরার বড় নৌকা কিনবেন।"

“তারপর?” জেলেদের প্রশ্ন।

“আপনারা বড় নৌকার সাহায্যে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাছ ধরবেন, বেশি আয় করবেন। সেটা দিয়ে আরও বড় কয়েকটা নৌকা কিনবেন। একসময় মাছ ধরার নৌবহর বানিয়ে ফেলবেন। তখন মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি না করে সরাসরি মাছ প্রসেসিং ফ্যাক্টরির সাথে বেচাকেনা করবেন। এক সময় নিজেরাই মাছ প্রসেসিং ফ্যাক্টরি খুলে বসবেন। তারপর অনেক ধনী হয়ে গ্রাম ছে'ড়ে মেক্সিকোর বড় কোনো শহর, আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস বা নিউ ইয়র্কে চলে যাবেন। সেখান থেকে আপনারা মেগা প্রজেক্ট চালু করবেন।" পর্যটক বলতে থাকেন।

“এসব করতে আমাদের কত সময় লাগবে?” জেলেরা জানতে চায়।

“২০/২৫ বছর তো লাগবেই।” একটু ভেবে জবাব দেন পর্যটক।

"তারপর?" জেলেদের চোখে কৌতূহল।

লোকটা হেসে বলেন, “ব্যবসায় যখন আরও বড় হবে তখন আপনারা শেয়ার বাজারে যাবেন, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করবেন।”

“মিলিয়র ডলার! ধরুন পেলাম মিলিয়ন ডলার। কিন্তু, তারপর?” জেলেরা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

পর্যটক তখন কিছুটা বিরক্তি নিয়ে জবাব দেন, “আপনারা তখন অবসরে যাবেন। শান্ত গ্রামে ফিরে এসে সমুদ্রের ধারে ঘুমাবেন, বাচ্চাদের সাথে খেলা করবেন, বৌয়ের সাথে খাবার খাবেন, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবেন, মজা করবেন।"

জেলেরা উদাসভাবে বলেন, “সেই কাজটাই তো আমরা এখন করছি! তাহলে ২০/২৫ বছরের ক'ষ্ট করতে যাব কেন?"

-সংগৃহীত।

যে মানুষ AI ব্যবহার করতে জানে না, সে কি আগামী ৫ বছরে পিছিয়ে পড়বে?

একটা সময় ছিল—কম্পিউটার জানা মানুষ আলাদা করে চোখে পড়তো।
আজ কম্পিউটার না জানা মানুষই আলাদা।

AI ঠিক সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে।

প্রশ্নটা আসলে এটা না যে AI চাকরি কেড়ে নেবে কি না
আসল প্রশ্ন—
যে মানুষ AI ব্যবহার করতে জানে, সে কি অন্যদের চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে?

উত্তরটা একটু অস্বস্তিকর।

হ্যাঁ, যাবে।

কারণ AI এখন “বুদ্ধিমান যন্ত্র” না,
এটা একটা ক্ষমতা বাড়ানোর হাতিয়ার

একজন লেখক যদি AI দিয়ে আইডিয়া সাজাতে পারে,
একজন প্রোগ্রামার যদি AI দিয়ে সমস্যা দ্রুত বুঝতে পারে,
একজন ব্যবসায়ী যদি AI দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্লেষণ করতে পারে—
তাহলে সে মানুষটা দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করেও
অন্যদের ১২ ঘণ্টার ফল পাচ্ছে।

এখানে AI প্রতিভা বানাচ্ছে না,
এখানে AI গতি বাড়াচ্ছে

আর আধুনিক পৃথিবীতে গতি মানেই এগিয়ে যাওয়া।

কিন্তু একটা ভুল ধারণা খুব বিপজ্জনকভাবে ছড়াচ্ছে—
“AI সব করবে, মানুষ কিছুই করবে না।”

বাস্তবে হচ্ছে উল্টো।

AI যাকে ব্যবহার করতে জানে না,
সে শুধু পিছিয়ে পড়বে না—
সে ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে।

ঠিক যেমন:

  • ইন্টারনেট না জানা মানুষ

  • স্মার্টফোন ব্যবহার না করা মানুষ

  • ইমেইল না জানা মানুষ

তারা হঠাৎ হারিয়ে যায়নি।
তারা চুপচাপ পিছিয়ে গেছে

তবে একটা স্বস্তির কথা আছে।

AI শেখা মানে কোড লেখা না।
AI শেখা মানে সঠিক প্রশ্ন করতে শেখা

যে মানুষ চিন্তা করতে জানে,
যে মানুষ শেখার ইচ্ছা হারায়নি,
তার জন্য AI কোনো শত্রু না—
AI তার সবচেয়ে শক্তিশালী সঙ্গী।

আগামী ৫ বছরে দুই ধরনের মানুষ থাকবে—

একদল বলবে:
“AI সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে।”

আরেকদল বলবে:
“AI আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে,
যেখানে আমি একা কখনো পৌঁছাতে পারতাম না।”

তুমি কোন দলে থাকতে চাও—
সেই সিদ্ধান্তটা কিন্তু এখনই নেওয়া হচ্ছে।

তোমার কী মনে হয়—AI কি সুযোগ, না ভয়?

ডলারের কাছে হারাম হার মানে

আমেরিকা, ইউরোপ আর ব্রিটেনে যেতে ভিসা লাগবে না—এই ঘোষণা দিলে এক দিনেই বাংলাদেশ প্রায় খালি হয়ে যাবে। ডিভি লটারির সময় পোস্ট অফিসে লটারির ফর্ম জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি—দেশের লক্ষ লক্ষ হুজুরও সেখানে ছিলেন। এখনো বাংলাদেশে বিয়ের পাত্র খোঁজার ক্ষেত্রে ইউরোপ, আমেরিকা আর ব্রিটিশ সিটিজেন পাত্ররাই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। প্রতিবছর ভূমধ্যসাগর, সাহারা মরুভূমি আর আমাজন জঙ্গল পাড়ি দিয়ে—২০ লক্ষ টাকা দালালকে দিয়ে, মাসের পর মাস পায়ে হেঁটে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ছাড়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ। এক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের লক্ষ্য একটাই—আমেরিকার ডলার, ইউরোপের ইউরো আর ব্রিটেনের পাউন্ড। এই সময় কেউ বলে না, আমেরিকার ডলার হারাম—কারণ ডলারে আছে আব্রাহাম লিংকন, জর্জ ওয়াশিংটন, ফ্র্যাংকলিন রুজভেল্টের ছবি; তারা সবাই কাফের-নাসারা। ইউরো হারাম—কারণ ইউরো নোটে আছে ইউরোপের বড় বড় চার্চ আর ক্যাথেড্রালের ছবি। ব্রিটিশ পাউন্ড তো হালাল হতেই পারে না—কারণ পাউন্ড মানেই ব্রিটেনের রাণীর ছবি। রাণী মানেই অমুসলিম নারী, বেপর্দা নারী। কিন্তু বাঙালি মুসলমানের ডলার-পাউন্ড-ইউরোতে কোনো এলার্জি নেই। পশ্চিমা দেশগুলোতে গিয়ে মিথ্যাচার করে সেসব দেশের সোশ্যাল বেনিফিট খেতেও তাদের কোনো সমস্যা নেই। টুপি, দাড়ি, নামাজ, রোজার পাশাপাশি ট্যাক্স ফাঁকি দিতেও সমস্যা নেই। শুধু বাঙালি মুসলমান নয়—সারা বিশ্বের দরিদ্র ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মুসলমানদের কাছেই সবচেয়ে বড় মধু হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব আর তাদের ডলার-পাউন্ড-ইউরো। এই নোটে কার ছবি আছে বা কীসের ছবি ছাপা—এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। বাঙালি মুসলমানের সমস্যা শুধু নিজের দেশের নোটের ছবিতে। নিজের দেশের নোটে যদি কোনো প্রাচীন ঐতিহ্যের ছবি থাকে, তখনই নাকি তাদের নামাজ কবুল হয় না। কিন্তু কখনো কি কোনো বাঙালি মুসলমানকে প্রশ্ন করতে শুনেছেন— “হুজুর, আমার ছেলে আমেরিকায় থাকে, মেয়ের জামাই ইউরোপের সিটিজেন, আমি কয়েক দিন আগে ব্রিটেন ঘুরে এলাম। পকেটে ডলার-পাউন্ড-ইউরো নিয়ে নামাজ পড়লে আমার নামাজ কবুল হবে তো?”

ভুয়া মোটিভেশনের ফাঁদে পড়বেন না: ইনকাম নয়, ভবিষ্যৎ ভাবুন

"চা বেচে অমুক দিনে ১০ হাজার কামাচ্ছে" "বেগুনের ক্ষেত করে মাসে ২ লাখ টাকা ইনকাম" "চাকরি ছেড়ে গোবর ছেনে কোটিপতি" এসব গল্প এখন অনেকেই শোনায়। তরুণদের জন্য পরামর্শ, এই ফাঁদে পড়বেন না। একদম নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতা — আমাদের বয়সী একজন — ওয়েল পেইড জব ছেড়ে এইসব কুইক ক্যাশের নেশায় পড়ে গেল, এখন হাউমাউ করে মরছে। আপনি যাই করেন, সেটার এক্সপান্ডিবিলিটি থাকতে হবে। ধরুন, একজন রিকশাওয়ালা, সে ডিসেন্ট আয় করে, এন্ট্রি লেভেল চাকরিজীবীর চেয়ে বেশি। রিকশাওয়ালারা মাসে ৩০ হাজার কামায় আর জবে নতুন হলে স্যালারি মাত্র ১৫ হাজার — ভিউ শিকারীরা আপনাকে এটুকুই বলবে। এবার পরের হিসাবটা! ভাবুন, ওই রিকশাওয়ালা তার ইনকাম ডাবল করতে চায় বা নিদেনপক্ষে আর একটু বাড়াতে চায়। তার জন্য একমাত্র অপশন রিকশা চালানোর সময় বাড়িয়ে দেওয়া। ডাবল করতে চাইলে তাকে ১০ ঘন্টার জায়গায় ২০ ঘণ্টা রিকশা চালাতে হবে। এটা কী ফিজিক্যালি পসিবল? রোদ, বৃষ্টি তো আছেই, ছুটির দিনে কাজে না গেলে আয় নেই। কিন্তু এন্ট্রি লেভেলের জবে ৪/৫ বছরে বেতন ডাবল হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক, কোনো অতিরিক্ত ঘন্টা না বাড়িয়েই। আপনি যে কাজটা করতে চান সেটা তো আগে ভালো লাগতে হবে। ফেসবুকের এক লাইকখোরের লেখা পড়ে আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন বাজারে বসে চা বেচবেন, চাকরির ডাবল ইনকাম। ভেবে দেখুন, আগামী ৩০ বছর আপনি কাপ পিরিচ আর চুলা নিয়ে চা বানাতে রাজি আছেন কিনা। লাইফস্টাইলের ব্যাপার তো আছেই। আপনার যখন তেমন ইনকাম ছিল না, তখন আপনি বাইক চালাতেন। সামনে টাকা হবে, গাড়ি কিনবেন। কিন্তু এসব কাজে গাড়ির ভূমিকা কি? গাড়ি চালিয়ে কি আপনি ঝালমুড়ি বেচতে যাবেন? চাকরিজীবি বা ডিসেন্ট লেভেলের উদ্যোক্তা হলে আপনি তার সাথে একটা লাইফস্টাইল আর নেটওয়ার্ক বাই ডিফল্ট পাবেন। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন, আপনি একটা স্টেশনারি কোম্পানির মার্কেটিংয়ে জব করেন। আপনি আজ এই ভার্সিটিতে, কাল ওই ঝকঝকে অফিসে বি-টু-বি ডিল করতে যাবেন। কত হাই স্কিল লোকের সাথে পরিচিতি হবে, কন্টাক্ট বিনিময় হবে। কিন্তু আপনি টাকা দেখে রাস্তায় বাদামের ঝুড়ি নিয়ে দাঁড়ালেন। আপনার নেটওয়ার্ক হবে পাশের ফুচকাওয়ালা, আইসক্রিম বিক্রেতা ইত্যাদি। ওই ফুচকাওয়ালার ওই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চিন্তা সে কতক্ষণে তার সব মাল বিক্রি করে ঘরে যাবে। আগামীকালও সে একই কাজ করবে। আপনার মতো তার অ্যাম্বিশন নেই, বড় কিছু করার ইচ্ছে নেই, দেশের মানুষের উপকারে আসার খায়েশ নেই। মনে রাখবেন, Your network is your net-worth. আর ওই সমস্ত পেশায় যে খুব বেশি ইনকাম হয় তাও কিন্তু না। খবরের শিরোনামে লেখা "চাকরি ছেড়ে বেগুন চাষে লাখপতি", ভিতরে থাকে ১ বছরে আয় সর্বসাকুল্যে ৩ লাখ টাকা। মানে ওই লোক মাসে মাত্র ২৫ হাজার টাকা কামায়, এটা নিয়ে আবার নিউজও হয়! তাই এইসব ভুয়া মোটিভেশনের ফাঁদে পড়বেন না। প্রতি বছর মিডিয়াগুলো নিজেদের স্বার্থেই এসব নিউজ করে। গত ৫ বছরে নিউজ তো কম দেখেননি, আইফোন হাতে চানাচুরওয়ালা, ডিএসএলআর হাতে চটপটি বিক্রেতা, আরো কত কি! প্রশ্ন হলো তারা এখন কোথায়? তারা এখনও কেন সেই রাস্তায় বসছে না আর ওরকম আয় করছে না? তাহলে এগুলো রিলায়েবল পেশা হয় কিভাবে? কোনো কাজই ছোট নয়। কিন্তু সব কাজই যে আপনার ফিল্ড, তা-ও নয়। আপনার কাছে খুব ভালো একটা প্ল্যান আছে, কিন্তু পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য আপনি এগোতে পারছেন না। এখন আপনি যদি মাছ কুটে, চানাচুর বেচে ওই ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে ফেলতে পারেন, তাহলে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু যেভাবে এসব পেশাকে সরাসরি একটা ওয়েল পেইড জবের বিকল্প হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তা মোটেও রিয়েলিস্টিক নয়।

এই দেশে সবাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে চায়ের দোকানে, ফেসবুকে, ওয়াজে, টকশোতে সব জায়গায়

আমরা সবাই সৎ মানুষ। শুধু ফাইল সই করার সময় একটু অসৎ, চাকরি দেওয়ার সময় একটু অসৎ, টেন্ডার দেওয়ার সময় খুব অসৎ। এই দেশে ঘুষ খাওয়া মানুষ লজ্জা পায় না, কিন্তু ঘুষ না দেওয়া মানুষকে সবাই প্রশ্ন করে— “তুমি কি বোকা নাকি?” আমরা বলি— “দেশটা ঠিক হবে না।” কিন্তু আমরা চাই—আমার কাজটা আগে হোক আমার লোকটা ঢুকুক আমার ফাইলটা ওপরে যাক দেশটা পরে দেখব। আমরা দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করি, যতক্ষণ না তারা আমাদের কাজটা করে দেয়। কাজ হয়ে গেলে তারা “ভালো মানুষ” হয়ে যায়। এই দেশে দুর্নীতি এতটাই স্বাভাবিক যে যে সৎ থাকে, তাকেই সন্দেহ করা হয়— “এ লোকটা কিছু একটা লুকাচ্ছে।” সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার কী জানেন?এই দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো— একটা দীর্ঘশ্বাস। আমরা আর চিৎকার করি না,প্রতিবাদ করি না, শুধু বলি— “এটাই বাংলাদেশ।” না ভাই, এটাই বাংলাদেশ না। এটা আমরা।