Logo

নতুন বই: পল্লী-সমাজ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী-সমাজ

কেন কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল Steve Jobs-কে?

ভাবুন তো
যে মানুষটি পরে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একটি তৈরি করবেন,
তিনি কি না কলেজের নিয়মিত ছাত্রই থাকেননি।

শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি
Steve Jobs কলেজের পথ ছেড়ে দিয়েছিলেন খুব অল্প বয়সেই।

কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই
কেন?

এমন কী হয়েছিল?

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Reed College–এ ভর্তি হয়েছিলেন।
কিন্তু খুব দ্রুত তিনি বুঝতে শুরু করলেন
যে পড়াশোনার জন্য এত টাকা খরচ হচ্ছে,
তার অনেকটাই তার কাছে অর্থপূর্ণ মনে হচ্ছিল না।

কলেজের ফি ছিল খুব বেশি।
আর তার দত্তক বাবা–মা সেই খরচ চালাতে জীবনভর সঞ্চয় করেছিলেন।

এই জায়গায় এসে Steve Jobs একটি কঠিন প্রশ্ন নিজেকে করেছিলেন—

“আমি কি এমন কিছু পড়ছি, যা সত্যিই আমার জীবনে দরকার?”

যখন উত্তরটা পরিষ্কার হলো না,
তিনি একটি অপ্রচলিত সিদ্ধান্ত নিলেন।

তিনি college drop out করলেন।

কিন্তু এখানেই গল্পের আসল মোড়

কলেজ ছাড়লেও তিনি শেখা ছাড়েননি।

তিনি এমন ক্লাসগুলোতে বসতেন
যেগুলো তার সত্যিই ভালো লাগত।

এর মধ্যে ছিল calligraphy
অক্ষরের সৌন্দর্য, spacing, typography–এর শিল্প।

তখন হয়তো কেউই ভাবেনি
এই ক্লাস ভবিষ্যতে কোনো বড় কাজে লাগবে।

কিন্তু বহু বছর পরে,
যখন Apple তাদের Macintosh computer তৈরি করছিল
তখন সেই calligraphy–এর ধারণাই কম্পিউটারে সুন্দর font design আনার পথ দেখায়।

এর ফলে personal computer প্রথমবারের মতো
শুধু একটি মেশিন নয়,
একটি সুন্দরভাবে ডিজাইন করা অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

এখানেই লুকিয়ে আছে বড় শিক্ষা

পরে এক বক্তৃতায় Steve Jobs বলেছিলেন

“You can’t connect the dots looking forward;
you can only connect them looking backward.”

অর্থাৎ,
জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত তখন অর্থহীন মনে হতে পারে,
কিন্তু পরে ফিরে তাকালে বোঝা যায়
সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিল।

অনেক বুদ্ধিমান মানুষ সফল হয় না, আবার অনেক সাধারণ মানুষ সফল হয় এর কারন কি?

ইতিহাসে এমন অসংখ্য মানুষ আছে যারা খুব মেধাবী ছিল, কিন্তু বড় কিছু তৈরি করতে পারেনি। আবার এমন অনেক মানুষ আছে যাদের কেউ বিশেষ প্রতিভাবান ভাবেনি, কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে।

এর একটি পরিচিত উদাহরণ হলো Jack Ma

স্কুল জীবনে তিনি বারবার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্যও তাকে কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়েছিল। পরে চাকরির জন্য যখন বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছিলেন, তখন প্রায় সব জায়গা থেকেই তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

একবার একটি চাকরির জন্য ২৪ জন আবেদন করেছিল।
২৩ জনকে নেওয়া হয়েছিল।
শুধু একজনকে নেওয়া হয়নি—তিনি ছিলেন জ্যাক মা।

তখন কেউ ভাবেনি যে এই মানুষটাই একদিন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি ও ই-কমার্স কোম্পানি Alibaba Group তৈরি করবেন।

তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?

অনেক সময় সমস্যা বুদ্ধিমত্তায় নয়—সমস্যা অভ্যাসে

বুদ্ধিমান মানুষ অনেক কিছু দ্রুত বুঝতে পারে। কিন্তু দ্রুত বোঝা আর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাওয়া এক জিনিস নয়।

সময়ের সাথে সাথে সেই ছোট ছোট প্রচেষ্টা জমে বড় হয়ে যায়।

এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়—
যে মানুষটাকে একসময় “সাধারণ” বলা হতো, সেই মানুষটাই কয়েক বছর পরে অসাধারণ হয়ে ওঠে।

কারণ সাফল্য অনেক সময় প্রতিভার প্রতিযোগিতা নয়।
এটা দীর্ঘ সময় ধরে লেগে থাকার প্রতিযোগিতা।

“It’s not that I’m so smart. It’s just that I stay with problems longer.”
— Albert Einstein

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা বুদ্ধিমত্তা না।

প্রশ্নটা হলো—
কে বেশি দিন পর্যন্ত নিজের পথে টিকে থাকতে পারে?

জ্যাক মা এতবার ব্যর্থ হয়েও কেন থামেননি?

অনেক মানুষ ব্যর্থতাকে শেষ মনে করে।

একবার ব্যর্থ হলেই তারা ভাবে—“হয়তো এটা আমার জন্য না।”

কিন্তু Jack Ma-এর গল্পটা অন্যরকম।

তিনি স্কুলে বারবার পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়েছিল।

চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন অনেক জায়গায়—কিন্তু প্রায় সব জায়গা থেকেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

একবার ২৪ জন মানুষ একটি চাকরির জন্য আবেদন করেছিল।

২৩ জনকে নেওয়া হয়েছিল।

শুধু একজনকে নেওয়া হয়নি—তিনি ছিলেন জ্যাক মা।

এতবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও তিনি থামেননি।

কেন?

কারণ তিনি ব্যর্থতাকে নিজের পরিচয় বানাননি।

তিনি এটাকে শেখার একটি ধাপ হিসেবে দেখেছিলেন।

অনেক মানুষ ব্যর্থতার পরে নিজেদের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে।

কিন্তু জ্যাক মা বারবার চেষ্টা করেছেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন—

যদি চেষ্টা থামিয়ে দিই, তখনই সত্যিকারের হার হয়।

আজ তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি Alibaba Group বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর একটি।

এই গল্পটা শুধু একজন ব্যবসায়ীর গল্প না।

এটা মনে করিয়ে দেয়—

ব্যর্থতা কখনও কখনও পথের শেষ না, বরং নতুন পথ খুঁজে পাওয়ার শুরু।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা ব্যর্থতা না।

প্রশ্নটা হলো—

ব্যর্থতার পর আমরা কি থেমে যাই, নাকি আবার চেষ্টা করি?

“Today is hard, tomorrow will be worse, but the day after tomorrow will be sunshine.”

— Jack Ma

টাকা ইনকাম কেমনে করবো?

প্রায় সবাই এই প্রশ্নটা করে।
কেউ করে হতাশা থেকে, কেউ করে স্বপ্ন থেকে।

কিন্তু একটা কঠিন সত্য আছে—
বেশিরভাগ মানুষ টাকা ইনকাম করার আগে টাকা সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে বসে থাকে।

অনেকে ভাবে টাকা আসে ভাগ্য থেকে।
কেউ ভাবে টাকা আসে শর্টকাট থেকে।
কেউ আবার ভাবে টাকা শুধু ধনীদের জন্য।

বাস্তবতা একটু আলাদা।

টাকা আসলে মানুষের সমস্যার সমাধান থেকে আসে

যে মানুষ যত বেশি মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারে,
সে তত বেশি মূল্য তৈরি করে—আর সেই মূল্যই একসময় টাকায় পরিণত হয়।

একজন কৃষক খাবার দেয়,
একজন প্রোগ্রামার সফটওয়্যার বানায়,
একজন শিক্ষক জ্ঞান দেয়,
একজন ব্যবসায়ী মানুষের প্রয়োজনকে বাজারে পৌঁছে দেয়।

সবাই একই কাজ করছে—
মানুষের প্রয়োজন পূরণ করছে।

তাই প্রশ্নটা “কেমনে টাকা ইনকাম করবো?” না হয়ে
হয়তো হওয়া উচিত—

আমি মানুষের কোন সমস্যাটা সমাধান করতে পারি?

কারণ টাকা সাধারণত সেই মানুষের কাছেই যায়
যে মানুষ অন্যদের জন্য মূল্য তৈরি করতে পারে।

“Try not to become a man of success, but rather try to become a man of value.”
— Albert Einstein