ডলারের কাছে হারাম হার মানে
আমেরিকা, ইউরোপ আর ব্রিটেনে যেতে ভিসা লাগবে না—এই ঘোষণা দিলে এক দিনেই বাংলাদেশ প্রায় খালি হয়ে যাবে।
ডিভি লটারির সময় পোস্ট অফিসে লটারির ফর্ম জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি—দেশের লক্ষ লক্ষ হুজুরও সেখানে ছিলেন।
এখনো বাংলাদেশে বিয়ের পাত্র খোঁজার ক্ষেত্রে ইউরোপ, আমেরিকা আর ব্রিটিশ সিটিজেন পাত্ররাই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।
প্রতিবছর ভূমধ্যসাগর, সাহারা মরুভূমি আর আমাজন জঙ্গল পাড়ি দিয়ে—২০ লক্ষ টাকা দালালকে দিয়ে, মাসের পর মাস পায়ে হেঁটে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ছাড়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ।
এক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের লক্ষ্য একটাই—আমেরিকার ডলার, ইউরোপের ইউরো আর ব্রিটেনের পাউন্ড।
এই সময় কেউ বলে না, আমেরিকার ডলার হারাম—কারণ ডলারে আছে আব্রাহাম লিংকন, জর্জ ওয়াশিংটন, ফ্র্যাংকলিন রুজভেল্টের ছবি; তারা সবাই কাফের-নাসারা।
ইউরো হারাম—কারণ ইউরো নোটে আছে ইউরোপের বড় বড় চার্চ আর ক্যাথেড্রালের ছবি।
ব্রিটিশ পাউন্ড তো হালাল হতেই পারে না—কারণ পাউন্ড মানেই ব্রিটেনের রাণীর ছবি। রাণী মানেই অমুসলিম নারী, বেপর্দা নারী।
কিন্তু বাঙালি মুসলমানের ডলার-পাউন্ড-ইউরোতে কোনো এলার্জি নেই।
পশ্চিমা দেশগুলোতে গিয়ে মিথ্যাচার করে সেসব দেশের সোশ্যাল বেনিফিট খেতেও তাদের কোনো সমস্যা নেই।
টুপি, দাড়ি, নামাজ, রোজার পাশাপাশি ট্যাক্স ফাঁকি দিতেও সমস্যা নেই।
শুধু বাঙালি মুসলমান নয়—সারা বিশ্বের দরিদ্র ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মুসলমানদের কাছেই সবচেয়ে বড় মধু হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব আর তাদের ডলার-পাউন্ড-ইউরো।
এই নোটে কার ছবি আছে বা কীসের ছবি ছাপা—এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।
বাঙালি মুসলমানের সমস্যা শুধু নিজের দেশের নোটের ছবিতে।
নিজের দেশের নোটে যদি কোনো প্রাচীন ঐতিহ্যের ছবি থাকে, তখনই নাকি তাদের নামাজ কবুল হয় না।
কিন্তু কখনো কি কোনো বাঙালি মুসলমানকে প্রশ্ন করতে শুনেছেন—
“হুজুর, আমার ছেলে আমেরিকায় থাকে, মেয়ের জামাই ইউরোপের সিটিজেন, আমি কয়েক দিন আগে ব্রিটেন ঘুরে এলাম।
পকেটে ডলার-পাউন্ড-ইউরো নিয়ে নামাজ পড়লে আমার নামাজ কবুল হবে তো?”
০