Logo

যুদ্ধের সময় মানুষ কী হারায়—যা খবরের শিরোনামে আসে না

যুদ্ধের খবর আমরা পড়ি সংখ্যায়—
কতজন নিহত, কতটা এলাকা দখল, কত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি।
কিন্তু যুদ্ধ আসলে সংখ্যার খেলা নয়। যুদ্ধ হলো ক্ষমতার হিসাব, আর সেই হিসাবের খাতায় মানুষ কেবল ব্যয়যোগ্য সম্পদ

খবরের শিরোনাম বলে না—
যুদ্ধের প্রথম শিকার সত্য
প্রতিটি পক্ষ নিজের বোমাকে “প্রতিরক্ষা” বলে, অন্যের কান্নাকে “প্রপাগান্ডা” বলে। সত্য এখানে বিলাসিতা—যুদ্ধের সময় রাষ্ট্র সত্য বহন করে না, ব্যবহার করে।

খবরের শিরোনাম বলে না—
মানুষ তার নৈতিকতা হারায় ধীরে ধীরে
প্রথমে শত্রু মানুষ থাকে, তারপর “টার্গেট”, শেষে “সংখ্যা”।
যে মানুষ কাল পর্যন্ত বলত “নিরীহদের হত্যা অন্যায়”, সে আজ বলে—
“যুদ্ধ হলে একটু কোল্যাটারাল ড্যামেজ হতেই পারে।”
নৈতিকতা মারা যায় না—রাষ্ট্র তাকে প্রয়োজনমতো ছুটি দেয়।

খবরের শিরোনাম বলে না—
যুদ্ধ মানুষের সহানুভূতিকে জাতীয়তা দিয়ে ভাগ করে দেয়
আমাদের শিশু = শহীদ
ওদের শিশু = পার্শ্বক্ষতি
কান্নার ভাষা এক, কিন্তু পতাকা আলাদা হলে মূল্যও আলাদা।

খবরের শিরোনাম বলে না—
যুদ্ধ মানুষকে চিন্তা করতে ভয় শেখায়
প্রশ্ন করা দেশদ্রোহিতা হয়ে যায়, সন্দেহ মানেই শত্রুর দালাল।
রাষ্ট্র তখন চায় আনুগত্য, বুদ্ধি নয়।
কারণ ভাবতে জানা মানুষ শাসনের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক।

খবরের শিরোনাম বলে না—
যুদ্ধ মানুষকে অভ্যাসে নিষ্ঠুর করে তোলে
প্রথম লাশে শিউরে ওঠা মানুষ, দশম লাশে চা খেতে খেতে স্ক্রল করে।
নিষ্ঠুরতা জন্মায় না—বারবার দেখলে সেটা স্বাভাবিক হয়ে যায়।

খবরের শিরোনাম বলে না—
যুদ্ধ শেষে যারা বেঁচে থাকে, তারা আর আগের মানুষ থাকে না।
তারা ঘরে ফেরে ঠিকই, কিন্তু
বিশ্বাস ফেরে না,
নিরাপত্তা ফেরে না,
আর সবচেয়ে ভয়ংকর—ভবিষ্যৎ কল্পনা করার ক্ষমতা ফেরে না।

ম্যাকিয়াভেলি হলে হয়তো বলতেন—
রাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধ প্রয়োজন হতে পারে।
কিন্তু রাষ্ট্র যদি ভুলে যায়, যুদ্ধের আসল দাম মানুষ দেয়—
তাহলে সেই রাষ্ট্র টিকে থাকে ঠিকই,
কিন্তু মানুষের জন্য নয়,
মানুষকে ব্যবহার করার জন্য।

যুদ্ধ শেষে মানচিত্র বদলায়।
কিন্তু নীরবে যা বদলায়—
মানুষের ভেতরের মানুষটা—
ওটার কোনো হেডলাইন হয় না।

Avatar
কোনো মন্তব্য নেই