একটা সময় যুদ্ধ মানে ছিল আতঙ্ক।
এখন যুদ্ধ মানে নোটিফিকেশন।
স্ক্রিনে ভেসে ওঠে—
বিস্ফোরণ, হামলা, প্রতিশোধ, পাল্টা আক্রমণ।
আমরা দেখি। শেয়ার করি। তর্ক করি।
তারপর স্ক্রল করে আরেকটা ভিডিওতে চলে যাই।
যুদ্ধ থামে না।
শুধু আমাদের মন থেমে যায়।
প্রতিদিন এত খবর আসে যে কষ্টেরও যেন একটা সীমা আছে।
একসময় মানুষ মরার খবর শুনে আমরা থমকে যেতাম।
এখন সংখ্যাটা বড় হলে অবাক হই, ছোট হলে গুরুত্ব দিই না।
১০ জন?
৫০ জন?
৫০০ জন?
সংখ্যা বাড়ে, অনুভূতি কমে।
আমরা হয়তো খারাপ না।
আমরা ক্লান্ত।
একটা সময় ছিল যখন দূরের দেশের যুদ্ধ মানে ছিল দূরের ট্র্যাজেডি।
এখন সেটা আমাদের নিউজফিডে ঢুকে পড়ে।
কিন্তু সমস্যা হলো—
নিউজফিডে যা আসে, সেটা বেশিক্ষণ থাকে না।
আমাদের সহানুভূতিও কি এখন অ্যালগরিদম-নির্ভর?
যে খবর বেশি শেয়ার হয়, সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।
যে ভিডিও বেশি ভাইরাল, সেই কষ্ট যেন বেশি বাস্তব।
বাকি কষ্টগুলো কোথায় যায়?
আমরা পক্ষ নিই।
তর্ক করি।
যুক্তি দিই।
কিন্তু খুব কম সময়ই আমরা থেমে ভাবি—
ওপারের মানুষটা আসলে কে ছিল?
কারও ছেলে।
কারও বাবা।
কারও অসমাপ্ত স্বপ্ন।
যুদ্ধের রাজনীতি বড়।
কিন্তু মৃত্যুগুলো সব সময় ব্যক্তিগত।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা হলো
আমরা ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাই।
বিস্ফোরণের শব্দ না শুনেও,
আমরা ভেতরে ভেতরে অসাড় হয়ে যাই।
হয়তো আমাদের মানবিকতা পুরোপুরি কমে যায় না।
কিন্তু সেটা প্রতিদিন একটু একটু করে ক্ষয়ে যায়।
যুদ্ধের আগুন দূরে জ্বলে।
তার ছাই আমাদের মনেও পড়ে।
আজ যদি আমরা শুধু পক্ষ না নিয়ে
একবার মানুষের দিকে তাকাই—
তাহলে হয়তো যুদ্ধের ভেতর থেকেও
মানবিকতা বাঁচানো যায়।
শেষ প্রশ্নটা তোমার জন্য—
আমরা কি যুদ্ধের খবর দেখছি,
নাকি ধীরে ধীরে অনুভব করার ক্ষমতাটা হারাচ্ছি?