আমরা প্রায়ই বলি—
“আমি রাজনীতিতে নেই।”
“আমি কোনো পক্ষ নেই।”
“আমি নিরপেক্ষ।”
শুনতে খুব শান্ত, খুব ভদ্র একটা অবস্থান।
কিন্তু প্রশ্নটা হলো—
নিরপেক্ষ থাকা মানে কি সত্যিই নির্দোষ থাকা?
ধরো, কোনো অন্যায় তোমার সামনে হচ্ছে।
তুমি কিছু বললে না।
কিছু করলে না।
কোনো পক্ষ নিলে না।
তুমি কি নির্দোষ?
নাকি তুমি শুধু নিরাপদ?
অনেক সময় নিরপেক্ষতা নীতির না, ভয়ের জায়গা থেকে আসে।
আমরা ঝামেলা চাই না।
সমালোচনা চাই না।
বন্ধু হারাতে চাই না।
তাই আমরা বলি—
“আমি কিছু জানি না।”
“আমি এসব নিয়ে কথা বলি না।”
কিন্তু ইতিহাসে খুব কম অন্যায় থেমেছে
কারণ মানুষ নিরপেক্ষ ছিল।
অন্যায় টিকে থাকে তখনই,
যখন ভালো মানুষ চুপ থাকে।
আবার এটাও সত্য—
সব বিষয়েই চিৎকার করা বুদ্ধিমানের কাজ না।
সব লড়াই আমাদের না।
সব মতামত দেওয়াও প্রয়োজন না।
তাহলে সীমারেখাটা কোথায়?
সমস্যা তখনই শুরু হয়
যখন নিরপেক্ষতা হয়ে যায় অভ্যাস।
যখন আমরা আর বিবেকের প্রশ্ন শুনি না,
শুধু নিরাপত্তার হিসাব করি।
নিরপেক্ষতা কখনো কখনো জ্ঞানী অবস্থান।
কিন্তু অনেক সময় সেটা সুবিধাজনক অবস্থান।
আমরা কি সত্যিই নিরপেক্ষ?
নাকি আমরা শুধু এমন একটা জায়গায় দাঁড়াই
যেখানে ঝুঁকি কম?
সবচেয়ে কঠিন কাজ পক্ষ নেওয়া না।
সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো—
সঠিক জায়গায় দাঁড়ানো।
নিরপেক্ষতা যদি সত্য খোঁজার প্রক্রিয়া হয়,
তাহলে সেটা সাহসী।
কিন্তু নিরপেক্ষতা যদি হয়
দায় এড়ানোর উপায়,
তাহলে সেটা নির্দোষ না।
শেষ প্রশ্নটা তোমার জন্য—
তুমি যখন চুপ থাকো,
তুমি কি শান্ত?
নাকি শুধু নিরাপদ?