ইরান কেন ‘আয়রন ডোম’ বানায়নি?
ইরান কেন ‘আয়রন ডোম’-এর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেনি? অদ্ভুত সমরনীতি নাকি বাস্তবমুখী কৌশল?
ইসরায়েলের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক মিসাইল হামলার পর অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—ইরান তো জানেই তারা টার্গেট, তাহলে তারা কেন ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’-এর মতো কোনো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত তৈরি করেনি? ইরানের সমরনীতি কি তবে দুর্বল?
আসলে বিষয়টি যতটা না দুর্বলতা, তার চেয়ে বেশি ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং ভিন্ন সামরিক কৌশলের প্রতিফলন। এর পেছনের মূল কারণগুলো হলো:
১. আয়তন ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: ইসরায়েল আয়তনে আমাদের ঢাকা বিভাগের চেয়েও ছোট। পুরো দেশটিকে কয়েকটি ‘আয়রন ডোম’ ইউনিট দিয়ে ঢেকে ফেলা সম্ভব। কিন্তু ইরান একটি বিশাল দেশ (প্রায় ১৬.৫ লক্ষ বর্গ কিমি)। পুরো ইরানকে আয়রন ডোম স্টাইলে সুরক্ষিত করা অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে প্রায় অসম্ভব।
২. আয়রন ডোম আসলে কী আটকায়? অনেকেই ভুল করেন এই জায়গায়। আয়রন ডোম মূলত তৈরি করা হয়েছে হামাস বা হিজবুল্লাহর ছোড়া স্বল্পপাল্লার সাধারণ রকেট বা কামানের গোলা আটকানোর জন্য। কিন্তু ইরানের প্রধান হুমকি হলো আমেরিকার F-35 স্টিলথ ফাইটার এবং ইসরায়েলের ব্যালিস্টিক মিসাইল। আয়রন ডোম এগুলো আটকাতে পারে না। একারণে ইরান আয়রন ডোমের পেছনে টাকা খরচ না করে রাশিয়ার S-300 বা তাদের নিজস্ব Bavar-373 এবং Khordad-15 এর মতো লং-রেঞ্জ সিস্টেমের ওপর জোর দিয়েছে।
৩. আক্রমণই যখন সেরা প্রতিরক্ষা (Deterrence): ইরানের সমরনীতি মূলত ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ বা Asymmetric Warfare। তারা জানে আকাশ প্রতিরক্ষায় তারা পশ্চিমাদের চেয়ে পিছিয়ে। তাই তারা কয়েক হাজার সস্তা ড্রোন এবং বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইল মজুদ করেছে। তাদের যুক্তি পরিষ্কার— “তোমরা যদি আমাদের ওপর হামলা করো, তবে আমাদের পাল্টা হামলায় তোমাদের পুরো দেশ মাটির সাথে মিশে যাবে।” তারা প্রতিরক্ষার চেয়ে পাল্টা আঘাতের ভয় দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে থামিয়ে রাখতে চায়।
৪. পাহাড়ের নিচে ‘মিসাইল সিটি’: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০০% নিঁখুত হওয়া কঠিন। তাই ইরান তাদের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র এবং মিসাইল ঘাঁটিগুলো পাহাড়ের শত শত ফুট নিচে সুড়ঙ্গ করে তৈরি করেছে। আকাশ থেকে বোমা ফেলে এগুলো ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।
#Iran #Israel #IronDome #Geopolitics #MilitaryStrategy #DefenceAnalysis #iranisraelconflict