ইতিহাস সব সময় শক্তদের পক্ষে লেখা হয়
ইতিহাস কখনো নিরপেক্ষ ছিল না।
সে সবসময় ক্ষমতার টেবিলের পাশেই বসেছে।
যার হাতে তলোয়ার ছিল,
কলমটাও শেষ পর্যন্ত তার হাতেই গেছে।
জয়ীরা ইতিহাস লেখে—এটা কোনো অভিযোগ না, এটা নিয়ম।
কারণ হারারা ব্যস্ত থাকে কবর গুনতে,
আর বিজয়ীরা ব্যস্ত থাকে গল্প বানাতে।
ইতিহাস বলে—কে দেশ “উদ্ধার” করল।
বলে না—কাদের ঘর পুড়ল।
ইতিহাস বলে—কে শত্রুকে “শাস্তি” দিল।
বলে না—কারা “উদাহরণ” হয়ে মরল।
যে দখল করে, সে বলে “একত্রীকরণ”।
যে প্রতিরোধ করে, সে হয়ে যায় “বিদ্রোহী”।
একই রক্ত,
শব্দ বদলালেই অর্থ বদলায়।
শক্তরা শুধু যুদ্ধ জেতে না—
তারা ভাষাও দখল করে।
“শান্তি অভিযান”, “প্রতিরক্ষামূলক হামলা”, “কোল্যাটারাল ড্যামেজ”—
এগুলো শব্দ না, এগুলো ঢাল।
এই ঢালের আড়ালেই লাশগুলো অদৃশ্য হয়।
হারারা ইতিহাসে থাকে ফুটনোটে—
নাম ছাড়া, মুখ ছাড়া।
কখনো “অজানা নিহত”,
কখনো “অনিবার্য ক্ষতি”।
ম্যাকিয়াভেলি হলে হয়তো বলতেন—
ক্ষমতা শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করে না,
সে অতীতও সম্পাদনা করে।
আর যে অতীত নিয়ন্ত্রণ করে,
সে মানুষকে শেখায়—কী ভুলে যেতে হবে।
তাই ইতিহাস পড়া মানে সত্য জানা না।
ইতিহাস পড়া মানে বোঝা—
কে বলছে,
কেন বলছে,
আর কাদের কথা ইচ্ছা করে বাদ রাখা হয়েছে।
ইতিহাস সব সময় শক্তদের পক্ষে লেখা হয়।
সত্য টিকে থাকে—
শুধু যারা খুঁজতে জানে, তাদের জন্য।