Logo

আমরা কেন পড়া ছেড়ে দিই, কিন্তু স্ক্রল করা ছাড়ি না

আমরা বলি “সময় পাই না।”
মিথ্যে।
সময় আছে বলেই আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করি।
আসলে আমরা পড়া ছেড়ে দিই, কারণ পড়া মানুষকে বদলায়;
আর স্ক্রল ছাড়ি না, কারণ স্ক্রল মানুষকে শান্তভাবে নিষ্ক্রিয় রাখে।

পড়া চায় পরিশ্রম
স্ক্রল চায় শুধু আঙুল।
পড়া প্রশ্ন তোলে “আমি কি ঠিক ভাবছি?”
স্ক্রল বলে “চিন্তা কোরো না, পরেরটা দেখো।”

পড়া মানুষকে একা করে।
একটা বইয়ের সাথে বসে থাকলে, নিজের মাথার শব্দ শোনা যায়।
আর মানুষ নিজের মাথার শব্দ সহ্য করতে পারে না।
স্ক্রল সেই শব্দ ঢেকে দেয়—নোটিফিকেশন, রিল, ট্রেন্ড, ক্ষোভ, হাসি।
সবকিছু, শুধু নিজেকে ছাড়া

পড়া তোমাকে ধীর করে
আর এই যুগ ধীর মানুষ চায় না।
ধীর মানুষ ভাবতে শেখে,
ভাবতে শেখা মানুষ প্রশ্ন করে,
আর প্রশ্ন করা মানুষ শাসনের জন্য বিপজ্জনক।

স্ক্রল তোমাকে দ্রুত রাখে কিন্তু ফাঁকা
এক মিনিটে দশটা মতামত,
কিন্তু একটারও দায় নেই।
এটা ক্ষমতার জন্য আদর্শ নাগরিক—
সব জানে মনে করে,
কিন্তু কিছুই গভীরে জানে না।

পড়া তোমাকে শেখায়—সব কিছু সহজ নয়।
স্ক্রল শেখায়—সব কিছুর একটা হট টেক আছে।
পড়া তোমাকে ধৈর্য দেয়।
স্ক্রল তোমাকে উত্তেজনা দেয়।
রাষ্ট্র, বাজার, অ্যালগরিদম—সবাই জানে
উত্তেজিত মানুষ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ,
ধৈর্যশীল মানুষ নয়।

আমরা পড়া ছেড়ে দিই, কারণ পড়লে বুঝে যাই—
আমাদের অনেক বিশ্বাস ধার করা,
অনেক মতামত প্রস্তুত-প্যাকেট।
আর এই উপলব্ধি অস্বস্তিকর।

স্ক্রল সেই অস্বস্তি দেয় না।
স্ক্রল শুধু বলে “তুমি ঠিক আছো। সমস্যা অন্যদের।”

ম্যাকিয়াভেলি হলে হয়তো বলতেন—
যে সমাজ পড়া ছেড়ে দেয়,
সে সমাজ শিকল পরে না—
সে নিজেই শিকলটাকে স্বস্তি বলে মেনে নেয়।

আমরা বই বন্ধ করি,
কারণ বই আয়না।
আর আমরা স্ক্রল চালু রাখি,
কারণ স্ক্রল পর্দা।

একটা তোমাকে মানুষ বানায়।
আরেকটা তোমাকে ব্যস্ত রাখে—
যাতে মানুষ হয়ে উঠার সময়ই না থাকে।

Avatar
কোনো মন্তব্য নেই